কেরানীগঞ্জের ঝাউচর এলাকায় মাদক সংশ্লিষ্ট অভিযোগে জনতার হাতে আটক এক ব্যক্তির ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ স্বীকারোক্তিকে ঘিরে নিরপরাধ এক প্রাইভেটচালককে ফাঁসানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
আটক হারিছ নামের ওই ব্যক্তি স্হানীয় জনসাধারণের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রাইভেট চালাক মোশাররফ হোসেনের নাম উল্লেখ করলেও, অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র মোশাররফ একজন সাধারণ পেশাজীবী, যার বিরুদ্ধে কোনো অপরাধ সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ বা পূর্ব রেকর্ড নেই।
এ-বিষয়ে আটক হারিছের স্ত্রীর সাথে কথা বললে তিনি জানান, মোশাররফ নামে কোনো ব্যক্তির সঙ্গে হারিছের পরিচয় বা যোগাযোগের তথ্য তাদের জানা নেই।আমার স্বামী মোশাররফ নামে কারোর সাথে কোনো লেনদেনে ছিল না।
হারিছের বোন স্পষ্টভাবে বলেন, আমার ভাইয়ের সঙ্গে মোশাররফ নামে কারও কোনো সম্পর্ক নেই। ভুলবশত বা কোনো চাপের মুখে এমন নাম বলা হয়ে থাকতে পারে। আমরা চাই না, নিরপরাধ কেউ এই ঘটনার শিকার হোক।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মোশাররফ দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর লালমাটিয়া এলাকায় ব্যক্তিগত প্রাইভেট গাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। এলাকায় তার বিরুদ্ধে কোনো অপরাধ, অভিযোগ বা মামলার নজির নেই। বরং তিনি একজন পরিশ্রমী, শান্ত ও সৎ মানুষ হিসেবেই পরিচিত।
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, যাচাই-বাছাই ছাড়া একটি ‘স্বীকারোক্তি’কে ভিত্তি করে একজন নিরপরাধ ব্যক্তিকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা চলছে, যা উদ্বেগজনক।
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে ‘পরিকল্পিত অপপ্রচার’ উল্লেখ করে মোশাররফ হোসেন তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আমি একজন সাধারণ প্রাইভেট কার চালক। কোনোদিন মাদক ব্যবসা বা অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলাম না। অথচ আমাকে জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে ভিডিও ও তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
তিনি আরও বলেন, এই অপপ্রচারের কারণে আমার পেশা ও সামাজিক মর্যাদা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমি প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি—সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা হোক।
সংশ্লিষ্টদের মতে, আটক ব্যক্তির দেওয়া তথ্যে অন্য কাউকে জড়ানোর পেছনে ব্যক্তিগত শত্রুতা, চাপ প্রয়োগ কিংবা প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করার কৌশল থাকতে পারে। তাই কোনো ধরনের যাচাই ছাড়া এমন তথ্যের ভিত্তিতে কাউকে অভিযুক্ত করা আইনগত ও নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।
ভুক্তভোগী মোশাররফ হোসেন ও তার পরিবার কেরানীগঞ্জ মডেল থানাসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সঙ্গে তারা অপপ্রচার বন্ধ ও প্রকৃত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
Leave a Reply